ঢাকা | ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় অপারেশন টেবিলে বিএনপি নেতার মৃত্যু, ক্লিনিকে ভাঙচুর

Modern Television
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 20, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত
ad728
চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পিত্তথলিতে পাথরের অস্ত্রোপচারের সময় রবগুল মোল্লা (৪৮) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ স্বজনরা ক্লিনিকটিতে ভাঙচুর চালিয়েছেন। পরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান।

নিহত রবগুল মোল্লা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুবদিয়া গ্রামের খেজমত মোল্লার ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়ার পর চিকিৎসার জন্য শুক্রবার দুপুরে তাকে শহরের উপশম নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে ক্লিনিকের মালিক ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এহসানুল হক তন্ময়ের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচার শুরু হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচার চলাকালেই অপারেশন টেবিলে রবগুল মোল্লার মৃত্যু ঘটে। তাদের আরও দাবি, মৃত্যুর পরও তাকে অপারেশন থিয়েটারে রাখা হয় এবং চিকিৎসক ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক সেখান থেকে চলে যান।

তবে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রবগুল মোল্লার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্লিনিক এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ স্বজনরা সেখানে দফায় দফায় ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ সময় ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাধা দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরীফ। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে তিনি জানান, নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত উপশম নার্সিং হোম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীদেরও নিরাপত্তার স্বার্থে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মারুফ রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর রোববার তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিন বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নিহতের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্লিনিকটি পুলিশের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : Modern Television

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ