ঢাকা | ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারে ভয়াবহ পাহাড়ধস, নিহত বেড়ে ৯

Deleted
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 6, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত
ad728
মডার্ন টেলিভিশন ডেস্ক: টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে একের পর এক পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। সোমবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ছাত্তারের ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আরও একজনের মৃত্যু হলে মোট নিহতের সংখ্যা নয়জনে পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে আটজন উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে ছাত্তারের ঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে আলী আকবর (৪৫)-এর বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে তিনি ও তাঁর পরিবারের আরও দুই সদস্য মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুই সদস্য বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পৃথক তিন পাহাড়ধসে নিহত ৮

রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও জামতলী (ক্যাম্প-১৫) আশ্রয়শিবিরে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

জামতলী আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিন সদস্য—কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। এ ঘটনায় পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অন্যদিকে, কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে মো. একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

এছাড়া বালুখালী আশ্রয়শিবিরে পৃথক আরেকটি পাহাড়ধসে উম্মে হাবিবা (২৭), তাঁর বোন তানজিনা আক্তার (১৩), ভাই হারুনুর রশিদ (৩) এবং মোহাম্মদ রিহান (৫) নিহত হন।

ফায়ার সার্ভিস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আরও পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী হাজারো রোহিঙ্গা এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

ঝুঁকিতে প্রায় ৮০ হাজার রোহিঙ্গা

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার আগমনের পর উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় আট হাজার একর বনভূমিতে ৩৪টি আশ্রয়শিবির গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে ৩৩টি শিবিরে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। এর মধ্যে অন্তত ৮০ হাজার মানুষ পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করছেন। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এসব এলাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

২৪ ঘণ্টায় ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আগামী আরও দুই দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে কক্সবাজারসহ পার্বত্য অঞ্চলে নতুন করে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

মডার্ন টেলিভিশন সকলকে অপ্রয়োজনে পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : Deleted

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ