ঢাকা | ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রংপুরে চার খুন: পুলিশের প্রাথমিক বয়ান নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তভার ডিবিতে

Modern Television
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 25, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত
ad728
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে। পুলিশের কোতোয়ালি থানার পরিবর্তে এখন মামলাটি তদন্ত করবে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত আরও নিরপেক্ষ, বিস্তারিত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র দিতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার নথি ও তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য নতুন কর্মকর্তার কাছে বুঝিয়ে দেন। পরে দুই তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যান এবং সেখানে তদন্তের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দির বেশ কিছু তথ্য পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও সেখানে নতুন কিছু তথ্যও এসেছে, যা আগে পুলিশকে জানানো হয়নি।

এর আগে রোববার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ দাবি করেন, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই চারজনকে হত্যা করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে বাড়ির ছাদে ওঠা দুই তরুণের সঙ্গে গণপতি চক্রবর্তীর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকেও হত্যা করা হয়।

তবে পুলিশের এই প্রাথমিক ব্যাখ্যা প্রকাশের পর থেকেই নানা প্রশ্ন সামনে আসে। নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘটনার আরও গভীর তদন্তের দাবি জানান। এ নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুই তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে—মাত্র দুজন ব্যক্তি কীভাবে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করলেন। হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ছাড়া বাড়ির পাশের অন্য একটি ভবনের ছাদ থাকা সত্ত্বেও কেন অভিযুক্তরা ঝুঁকি নিয়ে ওই বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করতে যাবেন, ঘটনার সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি কীভাবে ঘটল এবং ঘুমন্ত ১২ বছরের শিশুকে কেন হত্যা করা হলো—এসব প্রশ্নও উঠেছে। হত্যার পর অভিযুক্তরা কেন দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি অবসরে যান। এরপর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজের নির্মিত দোতলা বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে বসবাসের পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দিতেন।

গত শনিবার রাতে ওই বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৫) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি দিক নতুন করে যাচাই করবেন। তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পর তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : Modern Television

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ