জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিতেই বাসের ভেতরে ঘুমন্ত ইসমাইল হোসেনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যার পর তার মরদেহ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বাসচালক, সহকারী ও সুপারভাইজারকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।
পুলিশ জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে জামালপুর থেকে জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে যাচ্ছিলেন ৫০ বছর বয়সী ইসমাইল হোসেন। তিনি ‘রাজ ক্লাসিক’ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন।
পথে ভাড়া দেওয়ার সময় ইসমাইলের কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ টাকা দেখতে পান বাসের চালক ও তার সহযোগীরা। এরপরই টাকা ছিনিয়ে নিতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
চন্দ্রা এলাকায় পৌঁছানোর পর বাসটি ঢাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। একে একে অন্য যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার পর বাসটি প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। এ সময় ঘুমিয়ে পড়েন ইসমাইল। পরে সুযোগ বুঝে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর পরিচয় গোপন ও মরদেহ শনাক্তে বাধা দিতে ইসমাইলের মুখ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে দেওয়া হয়। এরপর রাতের কোনো একসময় তাকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা।
পরদিন সকালে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখ বাঁধা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় প্রথমে তাকে অজ্ঞাত হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। পরে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য মিলিয়ে ইসমাইলের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার এবং হত্যায় ব্যবহৃত বাসটি জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে টাকা ছিনিয়ে নেওয়াকেই হত্যার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিউজটি পোস্ট করেছেন :
Modern Television