এইচ.এম ইকবাল হাসান হৃদয় | আধুনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীকে এগিয়ে রাখতে হবে। নারী ড্রাইভারদের দিয়ে ডাইভিং; শুধু নারীর কর্মসংস্থান নয়, নারীদের বিরুদ্ধে সমাজের সমস্ত ট্যাবুকে অতিক্রম করে নারীর এগিয়ে যাওয়া তাছাড়া যারা ড্রাইভিং-এ এসেছে তারা কেউই সাধারণ বা একেবারে নিম্নবৃত্ত থেকে এসেছে এমন নয় তারা শিক্ষিত সাহসী, দৃঢ়চেতা এবং কোনো কাজই যে ছোট নয় সেটি তারা প্রমাণ করে দিয়েছে।
ড্রাইভাদের সাক্ষাৎকার দেখলাম, সবাই মুটামুটি শিক্ষিত, মার্জিত ও ট্যালেন্টেড। এদের অনেকের মিডিয়া ফেস করার ক্যাপাবিলিটিও যথেষ্ট ভালো। মেইন রুটে অন্য বাসের সাথে পাল্লা দিয়ে ড্রাইভিং করার মত যথেষ্ট ক্যাপেবলও।
তারা প্রত্যেকে বিভিন্ন ড্রাইভিং স্কুলের ইনিস্ট্রাকটর এবং রুটেও ড্রাইভিং ট্রেনিং করিয়ে আসছেন বহুদিন ধরে। আবার গত একমাস যাবত বড় গাড়ি রুটে চালানোর ট্রেনিং নিয়েছেন। আমি মনে করি, যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দিয়েই তাদেরকে ফিল্ডে নামানো হয়েছে, তারপরেও এক্সিডেন্ট হতে পারে, সেটা স্বাভাবিক ব্যাপার। এক্সিডেন্ট পুরুষ চালকদের দ্বারাও হয়। কিন্তু যেকোনো বিষয়ে মেয়েরা স্বাভাবিকভাবেই অধিকতর আন্তরিক ও মনোযোগী হয়।
এক শ্রেণীর লোক হয়তো নানানরকম ফতোয়া দেয়ার চেষ্টা করবে কিন্তু, এই নারীই যখন সংসার চালাতে সংকটে পড়ে ফতোয়াধারীদের কেউ কিন্তু তখন পাশে দাঁড়াবে না। নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। গাড়ীর চাকা ঘোরা মানে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরা, সেই সাথে, তাদের নিজের সংসারেরও। নারীরা এগিয়ে যাক, সর্বক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হোক।
নিন্দুক আর ফতোয়াবাজদের কথায় ঘরে বসে থাকলে, তাদের কথা শুনলে, নিশ্চয়ই তারা আজকে এতোবড় প্লাটফর্মে কাজ করার সুযোগ পেতো না। এক নারীর বক্তব্য ছিলো, তাদের কথা শুনলে কি আর এতদিন ড্রাইভিং instructor হিসেবে কাজ করে যেতে পারতাম? আজ,দোতালা বাসের মত বড় গাড়ি চালানোর সাহস করতে পারতাম?..
নারীদের এই দৃঢ় মনোবল ও সৎসাহসকে সম্মান জানাই। বদলে যান বদলে দিন।
নিউজটি পোস্ট করেছেন :
Modern Television