মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশের কর্মকর্তার পরনেও একই ধরনের শার্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা
সুমাইয়া আক্তার, স্টাফ রিপোর্টার | রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই আসামির একজনের পরনে থাকা শার্ট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মরদেহ উদ্ধারের দিন ঘটনাস্থলে রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনেও একই ধরনের শার্ট দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, একই ধরনের শার্ট একাধিক ব্যক্তির পরনে থাকতেই পারে।
এ বিষয়টি তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, তা স্পষ্ট হয়নি। স্থানীয় সাংবাদিকদের ধারণ করা বিভিন্ন লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তিকে ওই ধরনের শার্ট পরে ভবনের সিঁড়ি দিয়ে উঠতে। পরে জানা যায়, তিনি পুলিশের একজন কর্মকর্তা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, একই শার্ট আলাদা মানুষ পরতেই পারেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ রোববার বিকেলে আদালতে হাজির হয়ে মুখ্য মহানগর হাকিম মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বলেন, আসামিরা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা ওই ভবনে বসে ইয়াবা সেবন করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে তাদের একজন পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান থেকে তাকে আটক করা হয়।
এর আগে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার দাবি করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে তারা এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার পাশের সীমান্ত নামের এক ব্যক্তির বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করেন।
পরে রাতের শেষ দিকে দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান তারা। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন।
তবে পুলিশের এই প্রাথমিক বক্তব্য নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষ করে ইয়াবা সেবনের জন্য পাশের নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের ফাঁকা জায়গা ও ছাদ ব্যবহারের সুযোগ থাকার পরও অভিযুক্তরা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করা হয়। জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, অল্প সময়ে মামলার তদন্তে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট। পুলিশের ভালো কাজের প্রশংসা এবং নেতিবাচক কাজের সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের ওপর আস্থা রাখা যেতে পারে।
এদিকে গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তবে দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরও শার্টের মিলসহ হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর উত্তর তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নিউজটি পোস্ট করেছেন :
Modern Television