ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক আরিফ হোসেন তার আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা। আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটি বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে সি.আর. মামলা নং-৪০/২৬ হিসেবে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে তানিয়া খাতুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সাখাওয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে তানিয়াকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর তানিয়া তার স্বামীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবিকৃত অর্থ না দিলে তিনি সংসার করবেন না বলেও জানিয়ে দেন। একপর্যায়ে তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ ও মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তানিয়া যৌতুকের টাকা ছাড়া স্বামীর সংসারে ফিরতে রাজি হননি।
এ ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
বাদী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সুন্দর ও স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন গড়ার প্রত্যাশা ছিল তার। তবে বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে নানা অশান্তি ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। বিভিন্নভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা জানান, তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে তানিয়া স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে সংসার করার শর্তে জামিন লাভ করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের উদ্যোগে এবং লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।
তিনি বলেন, আসামি বাদীর সঙ্গে সংসার করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় এবং মীমাংসার উদ্যোগ ফলপ্রসূ না হওয়ায় আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।