ঢাকা | ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

Modern Television
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 28, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত
ad728
দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ প্রশ্ন এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। বিভিন্ন মহলে বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় এলেও সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।

দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সংযত নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন মহলে গ্রহণযোগ্যতার কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় তিনি এগিয়ে রয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। জানা গেছে, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বিএনপি এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চাইতে পারে, যিনি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংকটেও ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। সেই বিবেচনায় মির্জা ফখরুলের নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের কঠিন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের অবস্থান তুলে ধরা এবং রাজনৈতিক সমন্বয় রক্ষায় তার ভূমিকা নেতাকর্মীদের কাছে বিশেষভাবে মূল্যায়িত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো দুর্নীতির অভিযোগও ওঠেনি বলে সমর্থকরা দাবি করেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তার শান্ত ও মার্জিত আচরণ, সংলাপমুখী অবস্থান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার সক্ষমতা তাকে সর্বজনগ্রাহ্য নেতাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এ কারণে রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে তার নাম নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা এ রাজনীতিক পরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং কৃষি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি আন্দোলন, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং দল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ কমিশনের সদস্যরা ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সে অনুযায়ী সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন তপশিল ঘোষণা করবে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চললেও রাষ্ট্রপতি পদে কে মনোনীত হবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পরই।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : Modern Television

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ