ঢাকা | ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন গড়ে তুলতে সরকারের পরিকল্পনা

Modern Television
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 29, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন গড়ে তুলতে সরকারের পরিকল্পনা ছবির ক্যাপশন: প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন গড়ে তুলতে সরকারের পরিকল্পনা
ad728

সরকার দেশে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যোগাযোগ খাতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো, পুরোনো বাসের জন্য পরিবেশবান্ধব স্ক্র্যাপ নীতি প্রণয়ন, রাজধানীর বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস এবং মেট্রোরেল, মনোরেল ও আধুনিক বাসকে একীভূত নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সরকার যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি গণপরিবহনের গুণগত পরিবর্তনেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যা নিরাপদ, সময়োপযোগী, পরিবেশবান্ধব এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য হবে।


তিনি জানান, ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে সরকার এ খাতে নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে এবং এ ধরনের যানবাহনের ওপর আরোপিত প্রায় ৬২ শতাংশ কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। এর ফলে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জন্য ইলেকট্রিক যানবাহন কেনা সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি দেশজুড়ে প্রয়োজনীয় চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়লে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং বায়ু ও শব্দদূষণ কমে নগরবাসী আরও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবেন।

পুরোনো বাস ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন আনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব বাসের বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হবে এবং নিরাপদ চলাচলের উপযোগিতা হারাবে, সেগুলো আর ফেলে রাখা হবে না। পরিবেশসম্মত স্ক্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে লোহা, ইস্পাতসহ ব্যবহারযোগ্য উপকরণ পুনরুদ্ধার করে শিল্পকারখানায় পুনর্ব্যবহার করা হবে।

রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকার বাস টার্মিনাল ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার অভ্যন্তরের বাসস্ট্যান্ডগুলো মূলত সিটি বাস পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে। অন্যদিকে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস রাজধানীর চারপাশে স্থাপিত আধুনিক টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে। এতে নগরের ভেতরে ভারী বাসের চলাচল কমবে, যানজট হ্রাস পাবে এবং যাতায়াত আরও সুশৃঙ্খল হবে বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলো মেট্রোরেল, মনোরেল, ইলেকট্রিক বাস এবং আধুনিক সিটি বাসকে একটি সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্কের আওতায় আনা। এতে যাত্রীরা সহজেই একটি পরিবহন থেকে অন্যটিতে যেতে পারবেন, সময় ও ব্যয় কমবে, গণপরিবহনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহারও কমে আসবে।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, রাজধানী ঢাকাকে আধুনিক, বাসযোগ্য ও স্মার্ট নগরীতে রূপ দিতে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। সরকারের পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও দক্ষ গণপরিবহন ব্যবস্থার দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Modern Television

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ