ঢাকা | ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বন্দিদের গুলি করে পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলা হতো’

Modern Television
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 2, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত
ad728
সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক।

ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, ২০১০ ও ২০১১ সালে সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদীতে বন্দিদের নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে গুলি করে হত্যার পর মরদেহের সঙ্গে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

বুধবার বেলা ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর একক বেঞ্চে মামলার দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আব্বাস মল্লিক।

সাক্ষ্যে আব্বাস বলেন, অভিযানের দিন বিকেলেই সাদা পোশাকে র‌্যাবের সদস্যরা স্থানীয় দোকানিদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ এবং আলো নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে বরফ মিলের সামনে আসত র‌্যাবের কয়েকটি মাইক্রোবাস।

তার দাবি, ঢাকা থেকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় বন্দিদের এনে ট্রলারে তোলা হতো। ট্রলারে ওঠানোর সময় সঙ্গে নেওয়া হতো রশি ও সিমেন্টের বস্তা।

আব্বাস মল্লিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রলারটি বলেশ্বর নদীর গভীর পানিতে পৌঁছানোর পর গতি কমিয়ে দেওয়া হতো। এরপর একে একে বন্দিদের ট্রলারের বাইরে আনা হতো।

তিনি দাবি করেন, ট্রলারের দুই পাশের সাপোর্টের মাঝে বন্দিদের ধরে রাখতেন র‌্যাবের সদস্যরা। এরপর জিয়াউল আহসান নিজেই এসে বন্দিদের মাথা, কান অথবা বুকে গুলি করতেন।

মরদেহ ডুবিয়ে রাখতে নেওয়া হতো সিমেন্টের বস্তা

আব্বাস মল্লিকের অভিযোগ, হত্যার পর মরদেহের গলায় বা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। পানিতে লাশ ভেসে ওঠা ঠেকাতেই এমনটি করা হতো বলে দাবি করেন তিনি।

তার আরও দাবি, কিছু বন্দিকে সুন্দরবনের ভেতরে নিয়ে গিয়েও গুলি করে হত্যা করা হতো। পরে ঘটনাকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপন করতে সাংবাদিকদের ডাকা এবং মরদেহ থানায় হস্তান্তর করা হতো।

সাক্ষ্যে আব্বাস বলেন, অভিযান শেষে বরফ মিলে ফিরে আসার পর ট্রলার মাঝিদের খামে করে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হতো।

নিখোঁজ ভাইয়ের ঘটনাও ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন

জবানবন্দিতে নিজের ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন আব্বাস।

তার দাবি, আলকাছের দুটি ট্রলার ছিল এবং তিনি র‌্যাবের সঙ্গে কাজ করতেন। পরে র‌্যাবের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড স্থানীয় বাজারে আলোচনায় আসায় অন্য বোট মালিকেরা তাকে সতর্ক করেছিলেন।

আব্বাস জানান, ২০১১ সালের মাঝামাঝি একদিন দুপুরে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন আলকাছ। তাকে ফোন করে জানানো হয়, ‘জিয়া স্যার’ তাকে বটতলা-মানিকখালী এলাকায় ডেকেছেন।

সেদিন সন্ধ্যার পর থেকেই আলকাছের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর আর তার কোনো খোঁজ মেলেনি বলে ট্রাইব্যুনালে জানান আব্বাস।

ভাইয়ের সন্ধানে খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ঢাকার র‌্যাব কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

পাথরঘাটা থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে জিয়াউল আহসান ও র‌্যাবের নাম জিডিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পুলিশ রাজি হয়নি বলেও অভিযোগ করেন আব্বাস মল্লিক।

জবানবন্দির শেষ পর্যায়ে কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউল আহসানকে শনাক্ত করেন এই সাক্ষী। একই সঙ্গে নিখোঁজ ভাই আলকাছ মল্লিকের বিষয়ে ন্যায়বিচারের দাবি জানান তিনি।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে। বুধবার এই মামলাতেই ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিকের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : Modern Television

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ