ঢাকা | ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনের নদীপথে মাদকসহ অবৈধ পণ্যের পাচার, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

Modern Television
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 24, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728
সাতক্ষীরা, শ্যামনগর প্রতিনিধি | স্থলপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে সুন্দরবনের নদীপথকে ব্যবহার করে মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্রের বিরুদ্ধে। ভারত থেকে নদীপথে মাদক, অস্ত্র, চোরাই মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, নিষিদ্ধ ওষুধ, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, প্রসাধনী ও বিভিন্ন পণ্য এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যে এসব চালান ও বাহক আটক হলেও নেপথ্যে থাকা মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ভারত সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী, রমজাননগর ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চোরাকারবারি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্র ভারত থেকে নদীপথে অবৈধ মালামাল এনে স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প সময়ে বেশি পারিশ্রমিকের প্রলোভন দেখিয়ে নিম্নআয়ের বিভিন্ন পেশাজীবীকে পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। ফলে অভিযানকালে বাহকরা আটক হলেও চক্রের মূল নিয়ন্ত্রকরা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

সম্প্রতি র‌্যাব-৬-এর একটি দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২১ আগস্ট রাতে সুন্দরবনসংলগ্ন পার্শ্বেখালী গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের মাদক, প্রসাধনী সামগ্রীসহ বিভিন্ন অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়। অভিযানে নূরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হলেও মূল হোতা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সুন্দরবনের নদীপথ ব্যবহার করেই এসব মালামাল বাংলাদেশে আনা হয়েছিল।

মোংলা কোস্টগার্ডের মিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় বিভিন্ন অভিযানে চারটি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১ হাজার ৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলিসহ সুন্দরবনে সক্রিয় তিন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা ৫৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৪১ বোতল বিদেশি মদ, ৬১ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৪১ বোতল ভারতীয় বিয়ার, ২৮ হাজার টাকা মূল্যের ২৪ বোতল বিদেশি বিয়ার, ১৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার ৭৩৩ বোতল ফেনসিডিল এবং ২ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৫৬৩ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত ২৮ জুলাই নীলডুমুর ১৭ বিজিবি বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে এসব অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। শ্যামনগরের সীমান্তবর্তী কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন, ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে ভারত থেকে মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পাচার করে স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী নদীপথ ও সুন্দরবনের দুর্গম চরাঞ্চলকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার অভিযান চালিয়ে বাহক ও ছোট পর্যায়ের পাচারকারীদের আটক করা হলেও নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় চোরাকারবারিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

তাদের দাবি, সুন্দরবনের নদীপথে মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচার বন্ধে সীমান্তবর্তী নদী-খাল ও সুন্দরবনের প্রবেশপথে নিয়মিত টহল জোরদার, সন্দেহভাজন নৌযানে তল্লাশি এবং আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পাচারচক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Modern Television

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ