জনস্বার্থে মশা নিধন ও মশা বাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ।
মোঃ শাহজালাল (ফারুক) | আজ ২০ আগস্ট, বিশ্ব মশা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে "বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশন" এর,পক্ষ থেকে দেশবাসী এবং মশার কয়েল উৎপাদন,সংরক্ষণ ও বাজারজাতকারী শিল্পোদ্যোক্তা ব্যবসায়ী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।ম্যালেরিয়া,ডেঙ্গু,চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত মারাত্মক রোগ থেকে জনসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমান সরকার নানামুখী কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
পাশাপাশি, মশার উপদ্রব ও বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত মশার কয়েল ব্যবসায়ীরাও কয়েল বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তবে জনস্বার্থে মশার উপদ্রব প্রতিরোধ, দেশীয় কয়েল শিল্পের টেকসই উন্নয়ন এবং এই খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রশাসনিক ও তদারকি সহযোগিতা এখন অত্যন্ত জরুরি।
মশা প্রতিরোধে সরকারের বর্তমান উদ্যোগ
মশাবাহিত রোগ নিরাময় ও মশার বংশবিস্তার রোধে বর্তমান সরকার বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।
সমন্বিত মশক নিধন: স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে দেশব্যাপী লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড প্রয়োগ। চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া সহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত সেল গঠন ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি: গণমাধ্যমের সাহায্যে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে দেশব্যাপী নিয়মিত প্রচারণা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি) এর প্রধান ভূমিকা ও আহ্বান সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে মশার কয়েল উৎপাদন,সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে প্রথম ও প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হলো কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়ি কর্তৃপক্ষ। জনস্বার্থে এবং দেশীয় শিল্পের স্বার্থে এই দপ্তরের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ:
পিএইচপি (PHP) ও ফর্মুলেশন প্রক্রিয়া সহজীকরণ: বৈধ কয়েল ব্যবসায়ীদের মশার কয়েল উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া গতিশীল করতে পাবলিক হেলথ পেস্টিসাইড (PHP) রেজিস্ট্রেশন এবং কেমিক্যাল ফর্মুলেশন অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজতর, স্বচ্ছ ও দ্রুততর করা আবশ্যক।
কঠোর তদারকি ও শৃঙ্খলা রক্ষা: সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে মানসম্মত কয়েল উৎপাদন, নিরাপদ সংরক্ষণ এবং সঠিক বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে খামারবাড়ি কর্তৃপক্ষের কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা প্রয়োজন।
অনুমোদনহীন বালাইনাশক প্রতিরোধ: বাজারে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, চোরাই ও অনুমোদনহীন বালাইনাশক বা রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত তদারকি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।
বিএসটিআই (BSTI)-এর দায়িত্বশীল ভূমিকা
শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (BSTI)-এর ওপর কয়েলের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের চূড়ান্ত দায়িত্ব ন্যস্ত:
মান নিশ্চিতকরণ: বাজারে প্রচলিত মশার কয়েলগুলোর বিএসটিআই (BSTI) স্ট্যান্ডার্ড নিশ্চিত করা। অবৈধ মশার কয়েল বাজেয়াপ্তকরণ: বাজারে থাকা ক্ষতিকর ও লাইসেন্সবিহীন মশার কয়েল, মশার কয়েল ব্যবসায়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো উচ্ছেদে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা।
সনদ প্রদান সহজীকরণ: বৈধ নিয়ম মেনে চলা দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিএসটিআই সনদ প্রাপ্তি এবং এর নবায়ন প্রক্রিয়া হয়রানিমুক্ত করা।
এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জনাব শাহজালাল (ফারুক) বলেন,মশাবাহিত রোগ থেকে জনগণকে রক্ষা করা এবং দেশীয় শিল্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখা—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। খামারবাড়ি কর্তৃপক্ষের কার্যকর প্রশাসনিক সহযোগিতা ও কঠোর তদারকি এবং বিএসটিআই-এর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই কেবল এই শিল্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
জনস্বার্থে দেশীয় কয়েল শিল্প রক্ষা ও এর উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে মশার কয়েল ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য জোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। সভাপতি এম.কে আলম সরকার বলেন, মশা শুধু একটি বিরক্তিকর পোকা নয়; মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ জনস্বাস্থ্য, কর্মক্ষমতা ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে ব্যক্তি,পরিবার,ব্যবসায়ী সমাজ ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ ও মানসম্মত মশা নিয়ন্ত্রণ পণ্য ব্যবহার করা জরুরি।আমরা বিশ্বাস করি—সচেতন নাগরিক, দায়িত্বশীল উদ্যোক্তা এবং কার্যকর জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমিয়ে একটি সুস্থ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে।
নিউজটি পোস্ট করেছেন :
Modern Television