ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী শাহাদাত হোসেন শামীম।
রায়ে হাইকোর্ট ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক ক্ষমতা কমানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, এ মামলায় ১৬ আসামিকে একইসঙ্গে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ছিল ‘গণহারে’ মৃত্যুদণ্ড প্রদানের শামিল।
ডেথ রেফারেন্স ও নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিলের ওপর ১৭ কার্যদিবস শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হলো।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আখতার মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
এরপর ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সিরাজের অনুসারীরা নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ এপ্রিল রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান নুসরাত।
এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডিতদের মধ্যে সিরাজ-উদ-দৌলা ছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ের দুই বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতাও ছিলেন।