প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 27, 2026 ইং
ভালো মানুষ হলে আ.লীগের নেতারা নিজেদের ঠিকানা খুঁজে নেবেন: জামায়াত আমির

আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা ভালো মানুষ এবং দেশকে ভালোবাসেন, তারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী রাজনৈতিক ঠিকানা খুঁজে নেবেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ, দেশ গঠন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক বৈষম্য দূর করা। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ এসব লক্ষ্য পূরণে রাজনীতি করার যোগ্যতা হারিয়েছে এবং বাংলাদেশে দলটির রাজনীতি করার অধিকার নেই।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াত নেতাদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ৪০ বছর পর মিথ্যা মামলা দিয়ে দলটির নেতাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল। তার দাবি, ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময়ও জামায়াত নেতারা ভয় পাননি; বরং নিজেদের নির্যাতনের শিকার মনে করে শহীদের মর্যাদা পাওয়ার বিশ্বাস নিয়ে তারা মৃত্যুকে গ্রহণ করেছেন।
জামায়াত আমির বলেন, তারা ন্যায়বিচার চান, কোনো ধরনের চাপিয়ে দেওয়া বিচার চান না। নিরপরাধ কাউকে শাস্তি দেওয়া তো দূরের কথা, অন্যায়ভাবে কারও ক্ষতি করাও তাদের কাম্য নয়। সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত হলে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, অনেক মা-বাবা এখনো জানেন না তাদের নিখোঁজ সন্তান বেঁচে আছেন কি না। আবার কেউ মারা গেলে তার মরদেহ কোথায় দাফন করা হয়েছে, সে তথ্যও পরিবারের সদস্যদের কাছে অজানা রয়ে গেছে।
দেশে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না। যারা রাজনীতি করবেন, তাদের মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। সন্ত্রাস ও পাশবিকতার ওপর নির্ভরশীল রাজনীতির আর কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের রক্তের ঋণ জাতি কখনো ভুলবে না। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে কাজ করতে হবে।
গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জনগণ শুধু সংবিধানে সামান্য পরিবর্তনের জন্য গণভোটে মত দেয়নি; বরং তারা রাজনীতিতে মৌলিক পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছে। এমন রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে জনগণের স্বার্থ ও দেশের কল্যাণ অগ্রাধিকার পাবে এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ থাকবে না।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং জনগণের কল্যাণকে রাজনীতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ মর্ডান মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড | মডার্ন গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান