প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 2, 2026 ইং
কাপাসিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি | গাজীপুরের কাপাসিয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারীকে মারধর, বাড়িঘর ভাঙচুর, মালামাল লুট এবং মামলা তুলে নিতে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী আকলিমা (৩২), দক্ষিণগাঁও এলাকার বাসিন্দা। তিনি কাপাসিয়া থানায় ফারুক (৩৪), বেলায়েত (৫৮), নাইম (২৪) ও খলিল (৩৫)-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিবাদীরা তার পরিবারের সঙ্গে শত্রুতা করে আসছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে তার স্বামী পৈতৃক সম্পত্তিতে বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে বেলায়েত বাধা দেন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কয়েকজন মিলে তার ওপর হামলা চালিয়ে দা, বটি ও কাঁচি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ ৫ লাখ টাকা, বাড়ি নির্মাণের জন্য রাখা প্রায় ৫০০ কেজি রড, ৫০ বস্তা সিমেন্ট ও একটি পানির পাম্প নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় তিনি গাজীপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন, যার নম্বর সিআর-১৯৪। মামলাটি বর্তমানে চলমান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, বর্তমানে বিবাদীরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীরকে সঙ্গে নিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তার কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন। টাকা না দিলে তাকে ও তার সন্তানদের হত্যাসহ বড় ধরনের ক্ষতি এবং গুম করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া তার পক্ষে কেউ সাক্ষ্য দিলে বা প্রতিবাদ করলে তাদেরও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করা হয়েছে। শ্বশুর নুরুল ইসলামকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী বলেন, এসব হুমকির কারণে তিনি স্বামীর বাড়িতে যেতে পারছেন না এবং নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ মর্ডান মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড | মডার্ন গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান