প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 13, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 29, 2026 ইং
স্ত্রীকে ‘কালোজাদু’র অভিযোগ, শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যার পর থানায় জামাই

গাজীপুরের কালীগঞ্জে স্ত্রীকে শ্বশুর ‘কালোজাদু’ করেছেন—এমন অভিযোগে মজিদ মোড়ল (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর জামাই মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকারের (৩৫) বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে থাকলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সকালে নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে কালীগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন মোজাম্মেল। পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীকে শ্বশুর ‘কালোজাদু’ করায় সংসারে অশান্তি তৈরি হয়েছিল। এমনকি স্ত্রীকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেও দেওয়া হতো না। এ ক্ষোভ থেকেই শ্বশুরকে হত্যা করেছেন বলে জানান তিনি।
নিহত মজিদ মোড়ল কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। কলার ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে জামালপুর বাজারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন মজিদ। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাজারের ভাঙারিপট্টির একটি গলি দিয়ে মাথায় কলার ছড়া নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযুক্ত মোজাম্মেল ধারালো কুড়াল দিয়ে মজিদের মাথায় আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি।
পরে স্থানীয়রা মজিদকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহতের ছেলে লিটন মোড়ল (২৬) বাদী হয়ে মোজাম্মেল হককে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে মজিদের মেয়ে শাহানারার (২৮) সঙ্গে মোজাম্মেলের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন মোজাম্মেল। শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্যও শাহানারাকে চাপ দেওয়া হতো। তবে কলা বিক্রি করে সংসার চালানো মজিদের পক্ষে জামাতার চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত অর্থ দেওয়া সম্ভব ছিল না। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহের পাশাপাশি স্ত্রীকে মারধরের ঘটনাও ঘটত বলে অভিযোগ পরিবারের।
প্রায় ১৫ দিন আগে শাহানারাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর তিনি বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন এবং স্বামীর সংসারে আর ফিরবেন না বলে জানিয়েছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর মোজাম্মেল আত্মগোপনে চলে গেলেও শনিবার সকালে কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, মোজাম্মেল থানায় এসে হত্যার দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ মর্ডান মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড | মডার্ন গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান