প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 24, 2026 ইং
ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণ প্রমাণিত মাদ্রাসাশিক্ষকই জন্ম নেওয়া শিশুটির বাবা

নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণের শিকার ১১ বছর বয়সী শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের ডিএনএ অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএর সঙ্গে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিলে গেছে। ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ইতিমধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন জেলা পুলিশের কাছে পৌঁছেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, ফরেনসিক পরীক্ষায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও নবজাতকের ডিএনএ নমুনার মধ্যে মিল পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি পুলিশের হাতে এসেছে। তদন্তে কোনো ঘাটতি না থাকে, সে জন্য কয়েকজন পরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নুরুল কবীরও ডিএনএ মিল পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর মতে, অভিযোগপত্র দাখিলের আগে রাষ্ট্রপক্ষের মতামত নেওয়া হয়েছে। এরপর মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে অভিযুক্ত শিক্ষক একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।
শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা শিশুটিকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে চলে যান। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেন।
এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা করেন। দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের মধ্যে র্যাব-১৪ ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর পুলিশ তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়।
আদালতের নির্দেশে গত ১৭ মে অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অন্যদিকে, শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় আদালতের নির্দেশে ১২ মে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়।
ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে নবজাতকের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়ার পর এখন মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ মর্ডান মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড | মডার্ন গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান