
বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
লতিফ সিদ্দিকী জানান, বুধবার সকালে তিনি জানতে পারেন যে শাপলা চত্বরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তিনি বলেন, আদালতে হাজির না হলে আত্মগোপনে গেছেন—এমন ধারণা তৈরি হতে পারত। তাই তিনি আদালতে উপস্থিত হয়েছেন।
শাপলা চত্বরের ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, সে সময় তিনি মন্ত্রী থাকলেও ওই ঘটনা বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁর কোনো জানা ছিল না।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান লতিফ সিদ্দিকী।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় বুধবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত আগামী ৭ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ওই মামলায় লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্যান্য আসামিও আদালতে হাজিরা দেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি গোলটেবিল আলোচনা চলাকালে একদল ব্যক্তি লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে অবরুদ্ধ করে। পরে পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নেয় এবং পরদিন শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় গত বছরের ৬ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান লতিফ সিদ্দিকী এবং পরে তিনি কারামুক্ত হন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালে মন্ত্রিসভায় স্থান পান। ২০১৪ সালে হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তিনি মন্ত্রিত্ব হারান এবং আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হন। পরে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও একই বছরের ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের পর সংসদ বিলুপ্ত হলে তাঁর সংসদ সদস্য পদও বাতিল হয়ে যায়।