
কাশ্মিরকে ‘ভূ-স্বর্গ’ বলা হলেও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে চলমান বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠছে। গত দুই দিনে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৩২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীদের দাবি। গত ৫ জুন ৩৮ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা অন্তত ৯০ জনে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি।
শুধু বলপ্রয়োগেই থেমে থাকেনি ইসলামাবাদ। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে প্রকাশ্যেই বক্তব্য দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমি আজাদ কাশ্মীরের বিক্ষোভকারী ও ভারতকে একই কাতারে রাখি এবং তাদেরকেও ভারতের মতোই শত্রু মনে করি।” তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের মন্তব্য নিরাপত্তা বাহিনীর আরও কঠোর পদক্ষেপকে উৎসাহিত করতে পারে।
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ৫ জুন থেকে শুরু হওয়া ৩৮ দফা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি হলো কাশ্মিরের বাইরে অবস্থানরত কাশ্মিরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল করা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে ইসলামাবাদ অঞ্চলটির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে এবং স্থানীয় জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করছে।
আন্দোলন দমনে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ব্যাংকিং ও এটিএম সেবাও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ, কারফিউ জারি এবং ব্যাপক ধরপাকড়ের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে পাকিস্তান সরকার সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য উমর নাজিরের ছোট ভাই উসমান নাজিরও রয়েছেন বলে জানা গেছে।